আপনার ফ্ল্যাটে ও বিল্ডিং কমপ্লেক্সে যে ইনডোর প্ল্যান্ট গুলো লাগাতে পারেন :
- ব্যাম্বু পাম
- ফার্ন
- রাবার ট্রি
- স্পাইডার প্ল্যান্ট
- অ্যাগ্লোনিমা
- মানি প্ল্যান্ট
- স্নেক প্ল্যান্ট
- ফিলোডেনড্রন মিচান্স
- প্রেয়ার প্ল্যান্ট
- মানি ট্রি
কোথায় কিনতে পাবেন:
চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহরের বিভিন্ন নার্সারী থেকে ইনডোর প্ল্যান্ট গুলো সংগ্রহ করতে পারেন। অথবা অনলাইনে বিভিন্ন ফেইসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে দেখে অর্ডার করতে পারেন।
স্বাস্থ্যের জন্য ইনডোর প্ল্যান্ট এর ভূমিকা:

১. বাড়ায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা: ইনডোর প্ল্যান্টগুলোতে ফাইটোসাইড নামের একধরনের প্রাকৃতিক রাসায়নিক রয়েছে। যা রাসায়নিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে। অর্থাৎ বাসাবাড়িতে ইনডোর প্ল্যান্ট থাকলে আপনার অসুস্থ হওয়ার সুযোগ কম।
২. কমে চাপ আর উদ্বেগ: গবেষণায় দেখা যায়, যেসব মানুষ প্ল্যান্টের আশপাশে সময় কাটান, তাঁদের স্ট্রেস বা উদ্বেগজনিত সমস্যা কম থাকে। এমনকি যেসব অফিস ও ক্লাসরুমে গাছপালা থাকে, সেখানে লোকজন বেশি সৃজনশীল ও কর্মমুখী হয়।
প্ল্যান্টে খুব কম পরিমাণে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসোল’ থাকে, তাই এগুলো আরাম, প্রশান্তি ও শিথিলতাকে ত্বরিত করে। এই বিশেষ কারণে রোগীদের সুবিধার জন্য আজকাল অনেক হাসপাতাল বা সেবাদান কেন্দ্রে ইনডোর প্ল্যান্ট ইন্টেরিয়র ডিজাইন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

৩. মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে: বাড়ির আশপাশ বা কর্নারে সবুজ প্রাণের উপস্থিতি আপনার মনকে করে ফুরফুরে। গবেষণা বলে, প্ল্যান্টের উপস্থিতিই আপনাকে ভালো বোধ করায়, কর্মদক্ষতা বাড়ায়, এমনকি স্মৃতিশক্তিও ধারালো করে; আজকাল যারা বিষণ্নতা বা ডিমেনশিয়ার মতো মানসিক রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন, তাঁরা অনেকেই ‘হর্টিকালচারাল থেরাপি’ নিয়ে ভালো অনুভব করছেন।
মানসিক অবসাদ আর বিষণ্নতায় যখন কিছুই ভালো লাগে না, তখন নীরবে প্রকৃতির সান্নিধ্য খোঁজেন সবাই। গাছের যত্ন নেওয়া, অল্প স্বল্প পানি দেওয়া, ধুলা মোছা—এসবের মাধ্যমে আপনার প্রিয় গাছের বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার মনও কিন্তু স্বস্তি পায়! আর এর কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়, গাছপালার ইতিবাচক প্রভাব মস্তিষ্ককেও ইতিবাচক সংকেত দেয়।
৪. বাড়ায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা: ইনডোর প্ল্যান্টগুলোতে ফাইটোসাইড নামের একধরনের প্রাকৃতিক রাসায়নিক রয়েছে। যা রাসায়নিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে। অর্থাৎ বাসাবাড়িতে ইনডোর প্ল্যান্ট থাকলে আপনার অসুস্থ হওয়ার সুযোগ কম।
৫. বাতাসের মান ভালো করে: আজকাল দূষিত বাতাস থেকে পরিত্রাণের জন্য বায়োফিল্টার বা অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অথচ গবেষণা বলছে, বাতাস বিশুদ্ধ করতে বাড়িতে কয়েকটা গাছ থাকাই যথেষ্ট। ব্যাম্বু পাম, ফার্ন, রাবার ট্রি, স্পাইডার প্ল্যান্ট—এই ইনডোর প্ল্যান্টগুলো বায়ু বিশুদ্ধকরণে খুব ভালো কাজ করে; এগুলো দূষিত বাতাসের ক্ষতিকর উপাদান দূর করে বাড়ির বায়ুকে করে সতেজ।
স্বাস্থ্য সচেতনতায় নিজেকে ও পরিবারকে ভালো রাখতে যাঁরা সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় খুঁজছেন, তাঁরা ইনডোর প্ল্যান্টকে তালিকার প্রথমে রাখতে পারেন।

যেভাবে ইনডোর প্ল্যান্ট গুলো পরিচর্যা করতে পারেন :
১. ঝরে পড়া ফুল বা শুকনো পাতা টবের ভেতর থেকে ফেলে দেবেন। তাহলে গাছ ভালো থাকবে। গাছে কুঁড়ি দেখা দিলে গাছ ঘরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে রাখবেন না। এসময় টব বারবার এদিক-ওদিক সরালে গাছের কুঁড়ি ঝরে পড়তে পারে।
২. মাটি ভেজা থাকলে লিকুইড প্লান্ট ফুড দিন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্লান্ট ফুড দেবেন না। গাছের জন্য তা ক্ষতিকারক। নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ আছে এমন লিকুইড প্লান্ট ফুডই ইনডোর প্লান্টের জন্য আদর্শ।
৩. একসঙ্গে অনেক গাছে পরিষ্কার করতে চাইলে শাওয়ারের নিচে গাছগুলো রাখুন। তবে, হালকা পানি ব্যবহার করবেন। গাছের গোঁড়ার অংশ ও তার চারদিক প্লাস্টিক বা পলিথিন দিয়ে র্যাপ করে দেবেন। এতে গাছের সব মাটি ধুয়ে নষ্ট হয়ে যাবে না।
৪. গাছের পাতায় ধুলা বা ঝুল জমলে শুকনো নরম সুতি কাপড় বা হালকা স্পঞ্জ দিয়ে গাছের পাতা মুছতে পারেন। দুধ ও সমপরিমাণ পানির মিশ্রণ দিয়ে গাছের পাতা পরিষ্কার পারেন। তুলি দিয়েও পরিষ্কার করতে পারেন।






0 Comments